1. জাতীয়
  2. রাজনীতি
  3. আন্তর্জাতিক
  4. খেলাধুলা
  5. বিনোদন
  6. তথ্যপ্রযুক্তি
  7. সারাদেশ
  8. ক্যাম্পাস
  9. গণমাধ্যম
  10. ভিডিও গ্যালারী
  11. ফটোগ্যালারী
  12. আমাদের পরিবার
ঢাকা , মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই ২০২৬ , ১৩ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

শহীদের রক্ত যেন বৃথা না যায়:

রাজশাহীতে জুলাই শহীদ দিবসের স্মৃতিচারণে কান্নায় ভেঙে পড়লেন স্বজনরা

শাহ সোহানুর রহমান
আপলোড সময় : ১৬-০৭-২০২৬ ০১:১২:৫৫ অপরাহ্ন
আপডেট সময় : ১৬-০৭-২০২৬ ০১:১২:৫৫ অপরাহ্ন
রাজশাহীতে জুলাই শহীদ দিবসের স্মৃতিচারণে কান্নায় ভেঙে পড়লেন স্বজনরা ছবি: দৈনিক সোনালী রাজশাহী

শাহ্ সোহানুর রহমান: 
রাজশাহীতে নানা কর্মসূচির মধ্য দিয়ে ‘জুলাই শহীদ দিবস ২০২৬’ পালিত হয়েছে। বৃহস্পতিবার সকালে এ উপলক্ষে সিএন্ডবি মোড়ের জুলাই চত্বরে শহীদদের স্মরণে পুষ্পস্তবক অর্পণ করা হয়। পরে রাজশাহী জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে এক আবেগঘন পরিবেশে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। 
 
রাজশাহীর জেলা প্রশাসক কাজী শহীদুল ইসলামের সভাপতিত্বে সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন রাজশাহী বিভাগীয় কমিশনার ড. আ. ন. ম. বজলুর রশীদ। অনুষ্ঠানের শুরুতে প্রজেক্টরের মাধ্যমে বিগত ২০২৪ সালের জুলাইয়ে ছাত্র-জনতার আন্দোলনে পুলিশ ও আওয়ামী লীগের নির্বিচার গুলিবর্ষণ ও নিপীড়নের তথ্যচিত্র তুলে ধরা হয়।
 
​আলোচনা সভায় জুলাই আন্দোলনে শহীদদের পরিবারের সদস্যরা বক্তব্য দিতে গিয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন। শহীদ আবু রায়হানের পিতা মোঃ মোসলেম উদ্দিন স্মৃতিচারণ করে বলেন, তার ছেলে রাজশাহী কলেজে পড়াশোনা করত। বাড়িতে গেলে তাকে আদর করত, গোসলের পানি টেনে দিত। এগুলো মনে হলে তিনি খুব কষ্ট পান। ছেলে মাঝেমধ্যে বলত ‘আর কটা মাস অপেক্ষা করো চাকরি করব, তোমাকে হজ্ব করাবো।’ ছেলে তো আর চাকরি করতে পারল না, কিন্তু আল্লাহর অশেষ রহমতে তিনি তার শহীদ ছেলের সেই স্বপ্ন পূরণ করেছেন এবং হজ্ব করে এসেছেন। কিন্তু আজ তার ছেলে পাশে নেই।
 
​আরেক শহীদ সাকিব আনজুমের পিতা মাইনুল হক আবেগ আপ্লুত হয়ে জানান, ৫ তারিখ সকালে তার ছেলে নিষেধ না মেনে মাকে বলেছিল দেশের জন্য তো অনেকে জীবন দিছে। ঠিক দুপুর ১টার পর তিনি জানতে পারেন তার ছেলে গুলিবিদ্ধ হয়েছে। পরে হাসপাতালে গিয়ে ছেলের লাশ দেখতে পান তিনি। অন্যদিকে নারায়ণগঞ্জে শহীদ মিনারুলের স্ত্রী বলেন, তার স্বামী গার্মেন্টস কর্মী ছিলেন। তার সন্তান তার বাবাকে দেখতে পায়নি এবং আজ এতিম হয়ে গেছে। বাবা ডাকার মতো তার কেউ নেই। তিনি চান শহীদের রক্ত যেন বৃথা না যায়।
 
​সভায় বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সাবেক আহ্বায়ক নাহিদুল ইসলাম সাজু ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, দুই বছর পার হলেও আহতরা এখনো সঠিক চিকিৎসা পাচ্ছেন না। অথচ যারা আন্দোলনের বিপক্ষে অস্ত্র নিয়ে হামলা চালিয়েছে, তারা প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়াচ্ছে এবং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে হুমকি দিচ্ছে। অনেকে রাজনৈতিক ছায়াতেও আশ্রয় নিয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
 
জুলাইয়ে আহতদের পক্ষে শাহেব জাদা ও আল মাউন জিকো জানান, আন্দোলন চলাকালীন রাজশাহী মেডিকেলসহ কোনো হাসপাতাল পুলিশি বাধার কারণে তাদের চিকিৎসা দিতে চায়নি। তারা যেন সত্য ও ন্যায়ের জন্য জীবন উৎসর্গ করতে পারেন, সেই আহ্বান জানান।
 
​সভায় অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন, রাজশাহী জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি আলহাজ্ব মো. আবুল কাশেম, রাজশাহী মহানগর এনসিপির আহ্বায়ক মোবাশ্বের আলী, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর রাজশাহী মহানগরীর নায়েবে আমির সেলিম উদ্দিন ও ডাঃ জাহাঙ্গীর আলম, রাজশাহী মহানগর বিএনপির সহসভাপতি ওয়ালিউল হক রানা, রাজশাহীর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার শরিফুল ইসলাম এবং আরএমপির অতিরিক্ত কমিশনার ফারুক হোসেন। সবশেষে জেলা প্রশাসক কাজী শহীদুল ইসলামের সমাপনী বক্তব্যের মাধ্যমে আলোচনা সভাটি সমাপ্ত হয়।

নিউজটি আপডেট করেছেন : Daily Sonali Rajshahi

কমেন্ট বক্স

এ জাতীয় আরো খবর

সর্বশেষ সংবাদ